পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ, ঈশ্বরের প্রেম এবং পবিত্র আত্মার সহভাগিতা আপনাদের সকলের সাথে থাকুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি দয়া কর। হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
আমরা যখন জবের বইয়ের শেষ অধ্যায়ে আসি, তখন আমরা এমন এক মানুষের মুখোমুখি হই যিনি ঈশ্বরকে কেবল ‘শুনেছিলেন’, কিন্তু এখন তিনি তাঁকে ‘চোখে দেখছেন’। জব বলছেন, ‘আমি অতি তুচ্ছ, আমি কী উত্তর দেব? আমি আমার হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখলাম।’ এটি কেবল পরাজয়ের স্বীকারোক্তি নয়; এটি সেই মুহূর্ত যখন মানুষের সমস্ত যুক্তি, সমস্ত ‘কেন’, এবং সমস্ত হিসাব-নিকাশ ঈশ্বরের অসীম মহিমার সামনে শান্ত হয়ে যায়।
আজকের এই দিনে, যখন আমরা আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভোরের কথা ভাবছি—আমাদের সেই উজ্জ্বল, কৌতূহলী, এবং দয়ালু বেন—তখন জবের এই কথাগুলো আমাদের হৃদয়ে এক বিশেষ অনুরণন তোলে। বেন ছিল সেই বালক, যার চোখ সবসময় আকাশের দিকে থাকত। তার সেই প্রিয় বিমানগুলো, সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর স্বপ্ন, আর কম্পিউটারের কোডিং-এর জগতে তার সেই অদম্য আগ্রহ—এসবই কি ছিল না অসীমের প্রতি তার এক ব্যাকুল অনুসন্ধান? বেন কেবল কোডিং বা বিমান নিয়ে ভাবত না; সে তার ছোট হৃদয়ে এক বিশাল জগত ধারণ করত।
অ্যালান এবং থাও, আমি জানি এই তিন মাস—জুন মাসের সেই তেরো তারিখের পর থেকে—আপনাদের কাছে প্রতিটি দিন জবের সেই মরুভূমির মতো। মাঝরাতে যখন ঘরটা নিঝুম, আর বেনের সেই হাসি বা তার গিগলগুলো কেবল স্মৃতির দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়, তখন আপনাদের মনে হয়তো সেই প্রশ্নটি বারবার আঘাত করে, যা অনেক মা-বাবা নীরবে বহন করেন: ‘আমি কি আরও কিছু করতে পারতাম? কোথাও কি কোনো ভুল হয়ে গেল?’
আজ আমি আপনাদের খুব স্পষ্টভাবে একটি কথা বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। অসুস্থতা বা এই ধরনের শোক মানুষের কোনো লজিক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা তাকে যে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন, তা ঈশ্বরেরই ভালোবাসা। ঈশ্বর আপনাদের এই শোকের প্রতিটি ফোঁটা অশ্রু গণনা করছেন। আপনারা কোনো কিছু মিস করেননি। আপনারা তাকে আগলে রেখেছেন, ঠিক যেমন যীশু আজ বেনকে আগলে রেখেছেন।
সুসমাচারে যীশু যখন শিষ্যদের বলেন, ‘তোমরা আনন্দ করো কারণ তোমাদের নাম স্বর্গে লেখা আছে,’ তিনি আমাদের একটি গভীর সত্য শেখাচ্ছেন। শিষ্যরা তাদের ক্ষমতার জন্য আনন্দ করতে চেয়েছিল, কিন্তু যীশু তাদের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিলেন অনন্তকালের দিকে। বেন আজ সেই অনন্তকালের অংশ। তার নাম স্বর্গের খাতায় লেখা আছে। সে এখন আর কোনো অসুস্থতা বা যন্ত্রণার মধ্যে নেই। সে এখন সেই ‘Banquet of Heaven’-এ আছে, যেখানে কোনো মেঘ নেই, কোনো অন্ধকার রানওয়ে নেই।
মনে পড়ে, বেনের সেই ছোট পিগি ব্যাংকের কথা? যখন সে তার অসুস্থ কাকা উইলিয়ামের জন্য তার জমানো সবটুকু দিয়ে দিতে চেয়েছিল, তখন সে কোনো বড়াই করেনি। সে ভাঙেনি, সে কোনো নাটক করেনি; সে কেবল বলেছিল, ‘আমি আমার সবটুকু দিতে চাই।’ সেই অফারটি ছিল তার হৃদয়ের এক পবিত্র উৎসর্গ। সে আমাদের শিখিয়ে গেছে যে, ভালোবাসা মানেই হলো নিজেকে উজাড় করে দেওয়া, কোনো হিসাব না করে। বেন যখন তার বাবার সাথে সেই ইউরোপের সফরে ছিল, বা যখন সে তার প্রিয় কম্পিউটারের সামনে বসে গভীর রাতে কাজ করত, তখন কি সে জানত যে ঈশ্বর তার সেই উদারতাকে স্বর্গের খাতায় লিখে রেখেছেন? সে জানত না, কিন্তু ঈশ্বর জানতেন।
রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন মনে রেখো। সে বলত, ‘চেষ্টা করাই আসল কথা।’ তুমি যখন তোমার পড়াশোনায় বা তোমার খেলায় ক্লান্ত হয়ে পড়ো, তখন তোমার ভাইয়ের সেই হাসিমুখটা মনে কোরো। সে তোমার পাশেই আছে, তোমায় আগলে রেখেছে। তুমি একা নও। তোমার ভাইয়ের সেই মৃদু হাসি, তার সেই ভালোবাসা আজ ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে তোমাদের আগলে রাখছে।
আপনারা যারা আজ এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন, বিশেষ করে সেইসব মা-বাবারা যারা কোনো না কোনো ভারী ক্রস বয়ে বেড়াচ্ছেন—শুনে রাখুন, আপনারা একা নন। যীশু নিজে আপনাদের এই ব্যথার অংশীদার হয়েছেন। তিনি ক্রুশে ঝুলে আপনাদের এই কান্নার ওজন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আর আমাদের স্বর্গীয় মা, কুমারী মারিয়া, যিনি ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুক চেরা ব্যথা সয়েছিলেন, তিনি আজ আপনাদের এই মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের কান্নাকে নিজের পবিত্র চাদরে ঢেকে রেখেছেন। তিনি জানেন মা হওয়া মানে কী, তিনি জানেন সন্তান হারানো মানে কী। তিনি আজ আপনাদের সাথে কাঁদছেন এবং আপনাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—যেমন সি মাকুর সেই তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য তৈরি করা জলের কূপটি—তেমনি আপনারাও কারো জীবনে একটু শীতল জল হয়ে দাঁড়ান। এটিই হবে বেনের প্রতি আপনাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা।
প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। বেন, তুমি আমাদের জন্য প্রার্থনা করো, যেমন আমরা তোমার জন্য করছি। আমরা জানি, একদিন সেই স্বর্গের রানওয়েতে আবার আমাদের দেখা হবে, যেখানে কোনো বিদায় নেই, কেবল অনন্ত মিলন। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আমাদের আশীর্বাদ করুন, আমাদের সমস্ত অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন এবং অনন্ত জীবনে নিয়ে যান। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।